রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

বাকেরগঞ্জে জাটকা বিক্রির দায়ে ৩ জনকে অর্থদণ্ড, জব্দকৃত মাছ এতিমখানায় দান।

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:৫৬ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাকেরগঞ্জে জাটকা বিক্রির দায়ে ৩ জনকে অর্থদণ্ড, জব্দকৃত মাছ এতিমখানায় দান।

​অবৈধভাবে জাটকা ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রি বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের ঝটিকা অভিযানে বাকেরগঞ্জের বোয়ালিয়া বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। এ সময় জাটকা মাছ বিক্রির অপরাধে হাতেনাতে তিনজনকে ধরে জরিমানা আদায় করা হয় এবং ৪৯ পিস জাটকা জব্দ করা হয়।

​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রবিবার (আজ) অবৈধভাবে জাটকা মাছ বিক্রি হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বোয়ালিয়া বাজারে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তন্ময় হালদারের নেতৃত্বে একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
​এসময় জাটকা বিক্রির অপরাধে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী তিন ব্যক্তিকে মোট ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া বিক্রেতাদের কাছ থেকে ৪৯ পিস জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়।
​জব্দকৃত জাটকাগুলো পরে স্থানীয় দুটি এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংয়ে বিতরণ করা হয়।
​অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া উপজেলা সরকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তন্ময় হালদার নিশ্চিত করেন, জাটকা সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
​এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও মৎস্য দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাকেরগঞ্জে দুই যুবদল নেতা বহিষ্কার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:৩২ পিএম
শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাকেরগঞ্জে দুই যুবদল নেতা বহিষ্কার

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি :
দলীয় নীতি, আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের আওতাধীন বাকেরগঞ্জের দুই যুবদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন—বাকেরগঞ্জ পৌর যুবদলের সদস্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মনির এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান আল ইমাম খোকন।
২৯ নভেম্বর (শুক্রবার) কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দফতর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রমাণ মিলায় তাদেরকে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দলের স্বচ্ছতা, আদর্শ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় যুবদল সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলার প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ দফতর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া।

ব্যারিস্টার জোহার  আগমন উপলক্ষে বিশাল মটরসাইকেল শো ডাউন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:০৪ পিএম
ব্যারিস্টার জোহার  আগমন উপলক্ষে বিশাল মটরসাইকেল শো ডাউন

“কাতি গেল, আগুন আইলো”  গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া আলো উৎসবের ঐতিহ্য 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:০১ পিএম
“কাতি গেল, আগুন আইলো”  গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া আলো উৎসবের ঐতিহ্য 

“কাতি গেল, আগুন আইলো”  গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া আলো উৎসবের ঐতিহ্য 

বাংলার গ্রামীণ জীবনে কার্তিক মাসের একটি আলাদা আবহ আছে। শস্য উত্তোলনের অপেক্ষা, প্রকৃতির শুষ্কতা, ঠান্ডা হাওয়ার আগমন সব মিলিয়ে এই মাসটি ছিল গ্রামবাসীর কাছে যেমন কষ্টের সময়, তেমনি নতুন শুভ সময়ের আগমনী বার্তা। আর এই সময়টিকেই কেন্দ্র করে জন্ম নিয়েছিল এক অনন্য ঐতিহ্য—কার্তিকের শেষ রাতে আগুন জ্বালানোর উৎসব, যার প্রজন্মান্তরের উচ্চারণ ছিল

“কাতি গেলো, আগুন আইলো… কইরা পুটি মাছ দুয়ারে পইলো…”

এই চরণ শুধু একটি ছড়া নয়; এটি ছিল একটি শ্বাস নেওয়া জীবন্ত সংস্কৃতি, যা গ্রামবাংলার হৃদয়ে আলো ছড়াতো শিশুর হাসির মতোই নিষ্পাপভাবে।


শৈশবের তুলসিতলা থেকে গ্রামের মাঠ এক উৎসবের পথচলা

কার্তিক মাসের ৩০ তারিখ সন্ধ্যা নামলেই গ্রামে এক ধরনের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ত। ছোট-বড় সবাই ছুটে যেত তুলসিতলায়। সেদিন সন্ধ্যা যেন আগুনকে কেন্দ্র করে তৈরি এক উৎসবের অঘোষিত আয়োজন।

বাঁশের মাথায় খড় বেঁধে বানানো হতো ‘ভোলা’ কিংবা ‘বইড়ে’  এক ধরনের মশাল। ছেলেরা দৌড়ে যেত মাঠের দিকে, বড়রা নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে দেখতেন, আর আশপাশ ভরে যেত স্তবকের মতো স্লোগানে:

“কাতি গেল, আগুন আইলো…”

আগুনের লাল আলো আর শিশুর দৌড়ঝাঁপে আকাশ-পাতাল এক সুরে মিলে যেত। মনে হতো অন্ধকারের বুক যেভাবে আলোতে ভেঙে যায়, মানুষও তেমনি অশুভ শক্তির ভয়কে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যায়।


ঐতিহ্যের ভেতরের বিশ্বাস

গ্রামের বড়দের মুখে প্রচলিত ছিল
কার্তিক হলো অশুভ মাস।

এ সময়ে অভাব-অনটন, রোগব্যাধি, অজানা ভয়–এসবের প্রভাব নাকি বেশি থাকত। তাই কার্তিকের শেষ দিনে মানুষ আগুন জ্বেলে দূর করত অশুভ শক্তিকে। আগুন হয়ে উঠত

  • সুরক্ষার প্রতীক
  • শুভ সময়ের আহ্বান
  • অন্ধকারের বিরুদ্ধে মানুষের সাহস
  • নতুন দিনের আলো

আগুনের মশাল ওঠানো ছিল এক ধরনের প্রার্থনা পৃথিবী যেন আলোয় ভরে ওঠে, ঘরে যেন দুঃখ কমে, রোগবালাই দূরে থাকে।


সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা

এই রাত ছিল শুধু আগুন ঘোরানোর অনুষ্ঠান নয়; এটি ছিল এক ধরনের সামাজিক সংযোগ।

গ্রামের শিশুরা দৌঁড়াতো, বড়রা নির্দেশ দিতেন, মেয়েরা উঠোনে দাঁড়িয়ে দেখত, আর পুরো গ্রাম যেন এক সন্ধ্যার জন্য মিলে যেত।

আগুনের গন্ধ, খড় পোড়ার ধোঁয়া, শিশুর হাসি, আর রাতের ঠাণ্ডা হাওয়া সবকিছু মিলে এই উৎসব তৈরি করত এক অদ্ভুত নস্টালজিয়া, যা আজো অনেকের বুকের ভেতর উষ্ণ হয়ে থাকে।


আস্তে আস্তে বিলীন হওয়া এক ঐতিহ্য

সময় বদলেছে, মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টেছে। নিরাপত্তা, ব্যস্ততা, আধুনিকতা—সব মিলিয়ে এই উৎসবটি এখন প্রায় হারিয়ে গেছে।

যে উৎসব কখনো আলোয় আলোকিত করত গ্রামের আকাশ, আজ তা দেখা যায় কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে।
শিশুরা আগুন ঘোরানোর আনন্দের বদলে এখন ব্যস্ত মোবাইলের আলোয়।
তুলসিতলা, বাঁশ-খড়, দৌড়ঝাঁপ সবই স্মৃতির ফ্রেমে আটকে আছে।


তবু স্মৃতি জ্বলে থাকে আলোর শিখার মতো

আজও যখন কেউ শৈশবের স্মৃতি মনে করে বলে ওঠে

“কাতি গেল, আগুন আইলো…”

মনে হয় সেই আগুন আবার জীবিত হলো।
কারণ ঐতিহ্য শুধু ইতিহাস নয়—
এটি শেকড়ের গল্প, এটি আমাদের গ্রামবাংলার প্রাণ, এটি আমাদের মানুষ হওয়ার পথচিহ্ন।

যতদিন আমরা স্মৃতি হাতে ঐতিহ্যকে মনে রাখি,
যতদিন কোনো শিশু আগুন দেখে আনন্দে চিৎকার করে ওঠে,
ততদিন এই উৎসব হারাবে না

এটি বেঁচে থাকবে আমাদের হৃদয়ে, আমাদের সংস্কৃতিতে, আমাদের শিকড়ে।