বাকেরগঞ্জে হিন্দু তরুণীর প্রেমে মুসলিম যুবককে পালিয়ে বিয়ে: অপহরণ ও ধর্ষণের মিথ্যা মামলার অভিযোগ, মুসলিম পরিবারের
স্টাফ রিপোর্টার।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে মুসলিম তরুণ ও হিন্দু তরুণীর পালিয়ে বিয়ের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তরুণের পরিবারের বিরুদ্ধে ‘অপহরণ ও ধর্ষণ’ অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তবে এ মামলাকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেছে তরুণের পরিবার। মামলার জেরে তারা বর্তমানে গৃহছাড়া হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের মো: মাহবুব মাঝির পুত্র সান মাঝি ও রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের ফলাঘর গ্রামের অমল কৃষ্ণ সাহার কন্যা সৃষ্টি সাহা তরুণীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। গত ৬ নভেম্বর সুযোগ পেয়ে তারা পালিয়ে যায় এবং পরে গোপনে বিয়ে করে বলে দাবি করেছে ছেলের পরিবার। কিন্তু মেয়ের পরিবার জানায়, মেয়েকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে তরুণী সৃষ্টি সাহা সংবাদ মাধ্যমকে জানায়, সান মাঝির সাথে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল তাই নিজের ইচ্ছায় দুজনে একত্রে পালিয়েছে।
ঘটনার পর মেয়ে বাবা অমল কৃষ্ণ সাহা থানায় বাদী হয়ে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মো: সান মাঝি সহ তার পিতা-মাতা সহ চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। মামলার পর থেকেই তরুণের পরিবার এলাকায় অবস্থান করতে পারছেন না। তারা অভিযোগ করেছেন, মামলা দিয়ে তাদের সামাজিকভাবে হেয় করা ও হয়রানি করা হচ্ছে।
গত ১৬ নভেম্বর রবিবার তরুণীর বাবার দায়ের করা মামলায় ঢাকা থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত তরুণ সান মাঝি কে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ।
অপরদিকে উদ্ধারকৃত তরুণী সৃষ্টি সাহার পরিবার এই ঘটনাকে অন্য খাতে প্রবাবিত করতে তাদের মেয়েকে বিভিন্নভাবে ভুল বুঝিয়ে আদালতে মিথ্যে জবানবন্দী দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়ায় তরুণ–তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত তরুণ সান মাঝিকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তরুণীকে আদালতের মাধ্যমে বক্তব্য গ্রহণের জন্য সেফ কাস্টডিতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে তরুণ–তরুণীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলছেন, আবার কেউ বলছেন—মেয়ের পরিবারের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুব মাঝি সংবাদ মাধ্যমকে জানায়, আমার ছেলে সান ও সৃষ্টি পালানোর বিষয়ে আমরা কিছু জানতাম না। এখন আমাদেরকে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সঠিক তদন্ত করে মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে বাঁচতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তিনি।








