রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

বাকেরগঞ্জে হিন্দু তরুণীর প্রেমে মুসলিম যুবককে পালিয়ে বিয়ে: অপহরণ ও ধর্ষণের মিথ্যা মামলার অভিযোগ, মুসলিম পরিবারের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:০৭ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাকেরগঞ্জে হিন্দু তরুণীর প্রেমে মুসলিম যুবককে পালিয়ে বিয়ে: অপহরণ ও ধর্ষণের মিথ্যা মামলার অভিযোগ, মুসলিম পরিবারের

স্টাফ রিপোর্টার।

বরিশালের বাকেরগঞ্জে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে মুসলিম তরুণ ও হিন্দু তরুণীর পালিয়ে বিয়ের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তরুণের পরিবারের বিরুদ্ধে ‘অপহরণ ও ধর্ষণ’ অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তবে এ মামলাকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেছে তরুণের পরিবার। মামলার জেরে তারা বর্তমানে গৃহছাড়া হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের মো: মাহবুব মাঝির পুত্র সান মাঝি ও রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের ফলাঘর গ্রামের অমল কৃষ্ণ সাহার কন্যা সৃষ্টি সাহা তরুণীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। গত ৬ নভেম্বর সুযোগ পেয়ে তারা পালিয়ে যায় এবং পরে গোপনে বিয়ে করে বলে দাবি করেছে ছেলের পরিবার। কিন্তু মেয়ের পরিবার জানায়, মেয়েকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করানো হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে তরুণী সৃষ্টি সাহা সংবাদ মাধ্যমকে জানায়, সান মাঝির সাথে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল তাই নিজের ইচ্ছায় দুজনে একত্রে পালিয়েছে।

ঘটনার পর মেয়ে বাবা অমল কৃষ্ণ সাহা থানায় বাদী হয়ে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মো: সান মাঝি সহ তার পিতা-মাতা সহ চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। মামলার পর থেকেই তরুণের পরিবার এলাকায় অবস্থান করতে পারছেন না। তারা অভিযোগ করেছেন, মামলা দিয়ে তাদের সামাজিকভাবে হেয় করা ও হয়রানি করা হচ্ছে।

গত ১৬ নভেম্বর রবিবার তরুণীর বাবার দায়ের করা মামলায় ঢাকা থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত তরুণ সান মাঝি কে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ।

অপরদিকে উদ্ধারকৃত তরুণী সৃষ্টি সাহার পরিবার এই ঘটনাকে অন্য খাতে প্রবাবিত করতে তাদের মেয়েকে বিভিন্নভাবে ভুল বুঝিয়ে আদালতে মিথ্যে জবানবন্দী দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়ায় তরুণ–তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত তরুণ সান মাঝিকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তরুণীকে আদালতের মাধ্যমে বক্তব্য গ্রহণের জন্য সেফ কাস্টডিতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে তরুণ–তরুণীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলছেন, আবার কেউ বলছেন—মেয়ের পরিবারের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুব মাঝি সংবাদ মাধ্যমকে জানায়, আমার ছেলে সান ও সৃষ্টি পালানোর বিষয়ে আমরা কিছু জানতাম না। এখন আমাদেরকে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সঠিক তদন্ত করে মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে বাঁচতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তিনি।

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাকেরগঞ্জে দুই যুবদল নেতা বহিষ্কার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:৩২ পিএম
শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাকেরগঞ্জে দুই যুবদল নেতা বহিষ্কার

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি :
দলীয় নীতি, আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের আওতাধীন বাকেরগঞ্জের দুই যুবদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন—বাকেরগঞ্জ পৌর যুবদলের সদস্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মনির এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান আল ইমাম খোকন।
২৯ নভেম্বর (শুক্রবার) কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দফতর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রমাণ মিলায় তাদেরকে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দলের স্বচ্ছতা, আদর্শ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় যুবদল সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলার প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ দফতর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া।

ব্যারিস্টার জোহার  আগমন উপলক্ষে বিশাল মটরসাইকেল শো ডাউন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:০৪ পিএম
ব্যারিস্টার জোহার  আগমন উপলক্ষে বিশাল মটরসাইকেল শো ডাউন

“কাতি গেল, আগুন আইলো”  গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া আলো উৎসবের ঐতিহ্য 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:০১ পিএম
“কাতি গেল, আগুন আইলো”  গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া আলো উৎসবের ঐতিহ্য 

“কাতি গেল, আগুন আইলো”  গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া আলো উৎসবের ঐতিহ্য 

বাংলার গ্রামীণ জীবনে কার্তিক মাসের একটি আলাদা আবহ আছে। শস্য উত্তোলনের অপেক্ষা, প্রকৃতির শুষ্কতা, ঠান্ডা হাওয়ার আগমন সব মিলিয়ে এই মাসটি ছিল গ্রামবাসীর কাছে যেমন কষ্টের সময়, তেমনি নতুন শুভ সময়ের আগমনী বার্তা। আর এই সময়টিকেই কেন্দ্র করে জন্ম নিয়েছিল এক অনন্য ঐতিহ্য—কার্তিকের শেষ রাতে আগুন জ্বালানোর উৎসব, যার প্রজন্মান্তরের উচ্চারণ ছিল

“কাতি গেলো, আগুন আইলো… কইরা পুটি মাছ দুয়ারে পইলো…”

এই চরণ শুধু একটি ছড়া নয়; এটি ছিল একটি শ্বাস নেওয়া জীবন্ত সংস্কৃতি, যা গ্রামবাংলার হৃদয়ে আলো ছড়াতো শিশুর হাসির মতোই নিষ্পাপভাবে।


শৈশবের তুলসিতলা থেকে গ্রামের মাঠ এক উৎসবের পথচলা

কার্তিক মাসের ৩০ তারিখ সন্ধ্যা নামলেই গ্রামে এক ধরনের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ত। ছোট-বড় সবাই ছুটে যেত তুলসিতলায়। সেদিন সন্ধ্যা যেন আগুনকে কেন্দ্র করে তৈরি এক উৎসবের অঘোষিত আয়োজন।

বাঁশের মাথায় খড় বেঁধে বানানো হতো ‘ভোলা’ কিংবা ‘বইড়ে’  এক ধরনের মশাল। ছেলেরা দৌড়ে যেত মাঠের দিকে, বড়রা নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে দেখতেন, আর আশপাশ ভরে যেত স্তবকের মতো স্লোগানে:

“কাতি গেল, আগুন আইলো…”

আগুনের লাল আলো আর শিশুর দৌড়ঝাঁপে আকাশ-পাতাল এক সুরে মিলে যেত। মনে হতো অন্ধকারের বুক যেভাবে আলোতে ভেঙে যায়, মানুষও তেমনি অশুভ শক্তির ভয়কে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যায়।


ঐতিহ্যের ভেতরের বিশ্বাস

গ্রামের বড়দের মুখে প্রচলিত ছিল
কার্তিক হলো অশুভ মাস।

এ সময়ে অভাব-অনটন, রোগব্যাধি, অজানা ভয়–এসবের প্রভাব নাকি বেশি থাকত। তাই কার্তিকের শেষ দিনে মানুষ আগুন জ্বেলে দূর করত অশুভ শক্তিকে। আগুন হয়ে উঠত

  • সুরক্ষার প্রতীক
  • শুভ সময়ের আহ্বান
  • অন্ধকারের বিরুদ্ধে মানুষের সাহস
  • নতুন দিনের আলো

আগুনের মশাল ওঠানো ছিল এক ধরনের প্রার্থনা পৃথিবী যেন আলোয় ভরে ওঠে, ঘরে যেন দুঃখ কমে, রোগবালাই দূরে থাকে।


সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা

এই রাত ছিল শুধু আগুন ঘোরানোর অনুষ্ঠান নয়; এটি ছিল এক ধরনের সামাজিক সংযোগ।

গ্রামের শিশুরা দৌঁড়াতো, বড়রা নির্দেশ দিতেন, মেয়েরা উঠোনে দাঁড়িয়ে দেখত, আর পুরো গ্রাম যেন এক সন্ধ্যার জন্য মিলে যেত।

আগুনের গন্ধ, খড় পোড়ার ধোঁয়া, শিশুর হাসি, আর রাতের ঠাণ্ডা হাওয়া সবকিছু মিলে এই উৎসব তৈরি করত এক অদ্ভুত নস্টালজিয়া, যা আজো অনেকের বুকের ভেতর উষ্ণ হয়ে থাকে।


আস্তে আস্তে বিলীন হওয়া এক ঐতিহ্য

সময় বদলেছে, মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টেছে। নিরাপত্তা, ব্যস্ততা, আধুনিকতা—সব মিলিয়ে এই উৎসবটি এখন প্রায় হারিয়ে গেছে।

যে উৎসব কখনো আলোয় আলোকিত করত গ্রামের আকাশ, আজ তা দেখা যায় কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে।
শিশুরা আগুন ঘোরানোর আনন্দের বদলে এখন ব্যস্ত মোবাইলের আলোয়।
তুলসিতলা, বাঁশ-খড়, দৌড়ঝাঁপ সবই স্মৃতির ফ্রেমে আটকে আছে।


তবু স্মৃতি জ্বলে থাকে আলোর শিখার মতো

আজও যখন কেউ শৈশবের স্মৃতি মনে করে বলে ওঠে

“কাতি গেল, আগুন আইলো…”

মনে হয় সেই আগুন আবার জীবিত হলো।
কারণ ঐতিহ্য শুধু ইতিহাস নয়—
এটি শেকড়ের গল্প, এটি আমাদের গ্রামবাংলার প্রাণ, এটি আমাদের মানুষ হওয়ার পথচিহ্ন।

যতদিন আমরা স্মৃতি হাতে ঐতিহ্যকে মনে রাখি,
যতদিন কোনো শিশু আগুন দেখে আনন্দে চিৎকার করে ওঠে,
ততদিন এই উৎসব হারাবে না

এটি বেঁচে থাকবে আমাদের হৃদয়ে, আমাদের সংস্কৃতিতে, আমাদের শিকড়ে।